আমার নও : একটি আভাঁগার্দ গল্প

 

   আজ্ঞে, এঁরা সব পেচক সম্প্রদায়ের।  ছুটি শুরু হয়ে গেছে। আশা করি ভোর সাড়ে দশটার মধ্যে কাঁটাশয্যা থেকে গাত্রোৎপাটন করবেন। ফেলাশিও থেকে নাকি প্যাপিলোমা ভাইরাস আসে? তা হোক তা হোক  কতকিছু থেকেই তো আসে যায় কর্কট রোগ তবু সেই শিবনেত্র তবু সেই সিলিঙের ফ্যানেদের অলস গানের  মৃদু গ্রীষ্মে ধীরে ধীরে পেকে ওঠা এ ফল প্রাণের হাতের মুঠোয় ধরা বীজের তরল  তার পরে শিল্পিত উঠে যাওয়া যায়  সঙ্কোচন প্রসারণ অলক্ষ্য তাই  মুখ টিপে হেসে চলে যাই ধীরে ধীরে সোজা হওয়া পায়ের পাতায় ফেলাশিও থেকে নাকি হতে পারে কর্কট রোগ? সমুদ্র বলে ওঠে, তা হোক তা হোক হে কাগা, রে কাগা, কাআগা রে! কাঃ কাঃ কাঃ আহ আহ আহ ঘর অন্ধকার, তার স্বাদ পর্দা ধুন্দুল, আর বাইরে দেয় গুল কত রান্না কত কথা কত সংসারের দারুণ প্রমাদ শুধু তুই আজ বাইরের দূত চাস যদি ঢুকে আয়, ইতস্ততঃ খা আর গা হে কাগা এ কাগা, কাগা রে! কাঃ কাঃ কাঃ আহ আহ আহ এ শব্দ কিসের শব্দ? কালোনুনিয়া দেখতে কেমন ? খুবকালো? মাঝারিকালো? নাকি দুলকিআলো ? খেতে খেমন ? দেখলেই খিদে পায় ? নাকি যখন তখন ? ঘ্রাণ ? গন্ধ আছে কোনো? নাকি আঠালো ফুলের আঠার মতন ? শক্ত খুব? নাকি নরম ? নাকি মুখে দিলেই গ’লে যায় এমন ? ডগাটা নরম ! কালোনুনিয়া দেখতে কেমন ? রডের মতন নাকি ঝলসানো রডোড্রেনড্রন ? চোরার ঘরে চোরা , তেইলা চোরা, যায়গায় খায় যায়গায় ব্রেক, কাইত হইয়া খায় চিত হইয়া মরে, লাফাইয়া খায় দাফাইয়া মরে। ময়নার মার ঘুম নাই,হাসিনার মার খাতা নাই। ইঁদুর-চিকার মারামারি নষ্ট করে বাসাবাড়ি, ঔষধ লাগান তাড়াতাড়ি। ধরা পড়লে জামিন নাই, ইঁদুর কইবে আয়রে ভাই দেশ ছাইড়া বিদেশ যাই! একদাম ২০ টাকা ২০ টাকা ২০ টাকা ।

          জংধরা রেলপথে যেন কোন  রেলগাড়ি  অশ্বত্থের ঘেরাটোপ বটের ক্যানোপি মাকড় কলোনি ছিঁড়ে চলার মতন আগে পাশে হাতড়ায়  কোন তাড়াতাড়ি নেই কোন তাড়াতাড়ি রেলগাড়ি! খোলো মুখ, রাখো হাত, উহ কি মিঠে অসুখ ওফ কাগা বোস। আআ হাহাহা হে কাগা ও কাগা কাগা রে ম্যাগির খিচুড়ি । লিরিকাল করে বানানো। কোনো কথা হবে না। যেমন স্বাদ, তেমন গন্ধ ! কোনো চিনাকে খাওয়ালে মাও জে ডঙ ভুলে বাড়ি থেকে নড়বে না,  গোলাম হয়ে থাকবে। সাধে বলে জাতে গোরিলা ; অন্তরমহল সন্ধ্যে হয়ে আসছে। লাল আর কালচে আকাশ ।ঝাঁকে ঝাঁকে ফিরে যাচ্ছে পাখিরা ।’বাসায়’ । নিজস্ব বাসা ।মানব ঘাটে বসে থাকে ।সময় কাটে ।কাটেওনা ।জলের ভেতর ঘাই মারে মাছ ।দূরে ,বহূ দূরে একটা শিল্যুট । ক্রমশ আবছা থেকে স্পষ্ট হয় ।  বিকেলে ঝঞ্ঝাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে আড্ডাগলির চুল্লু উৎসবে মুগ্ধতা ছড়িয়ে দিলেন মঞ্জুলাদি। আমরা আপ্লুত।ধন্যবাদ…..

         আমার গুরুদেবদাদুভাই বলতেন, প্রকৃত কীর্তনশিল্পী হচ্ছেন সেই মাধ্যম যিনি ঈশ্বরের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক গড়ে দেন। তাঁদের উদ্দ্যেশে প্রণাম রেখো। যে চরম ভাবাবস্তায় দূর দূর বিচরণ করে আত্মা, সঙ্গীত ছাড়া সে ভাব আর কিসে? স্বর্গ নেমে আসে সুরের কাছে এখানেই।          একটা নৌকো ।মাঝির বয়স হাজার বছর তিন মাস  । ঘাটে এসে লাগে নৌকো । কোঁচকানো চামড়ার ভেতর  কোটরাগত চো়খ । ঘন সাদা চুল,সাদা দাড়ির ফাঁকে  সাদা দাঁত ।নিকষ  প্রেতের মত লাগে  । মাঝি ওকে চেনে । দুমাস হলো মানুষটা এসেছে এখানে । রোজ এভাবেই বসে থাকে । এদিকটা গ্রাম থেকে দূরে ।সচরাচর আসেনা কেউ ।ভাঙাচোরা ঘাট,আগাছা আর ভুতের উপদ্রব ।দূরে ধ্বংসস্তুপ  দানব  অট্টালিকা ।দু ধাপ নীচে বসে মাঝি । সুলেমান । একটা বিড়ি ধরায় । মানবকে একটা দেয় । চুপ চাপ ।রাত বাতাস খেলা করে দুজনের মাঝে । কি যেন বলতে চায় মাঝি । প্রিয় ঠোঁট- প্যাস্টেল। প্রিয় আকুতি- পরকীয়া। প্রিয় বৃক্ষ- বিবাহ। প্রিয় আকাশ-আরন্যক। প্রিয় ধ্বনি- হরিণী। প্রিয় রাগ- অনন্তনাগ। প্রিয় নক্ষত্র-শরৎ। প্রিয় স্পর্শ- রসাতল। প্রিয় আলাপন- শিহরণ। প্রিয় শব্দ–নৈঃশব্দ। প্রিয় আলেখ্য-চম্পক। প্রিয় মানুষ-মৃগয়া। তাবৎ শক্তিমত্তা আর পবিত্রতা সমেত মৃত এই রাষ্ট্র ঈশ্বরের …”ভিনসারেমো”, তাবৎ শক্তিমত্তা আর পবিত্রতা সমেত এই রাষ্ট্র বলে উঠলেন–খুনের জন্য দায়ী এই ছুরি তৈরির কৌশল  গোলাপ আর বৃষ্টির ঘ্রাণে মুগ্ধ ছিল সন্ধ্যার দখিনা বায়, রাত্রি  নেমেছে চোখের কাজলের গভীরে, ক্লান্তিগুলো ঢেকে রেখেছি ।

           ঢেউ- চোখ। প্রিয় পলক- দারুচিনি। শেষ বিকালবেলা ঘুমোলে যুবতীদের মেজাজ খুব  খিটমিট খিটমিট  !  কখন কোথায় কি মুখ ফসকে যায় –  নিজেরে বলেই চলে…..ব্যাস সবাই মিলে মতামত দেওয়া শুরু হয়ে গেছে। লাভ হবে কি? হয়েছে এর আগে? তখনও তো মতামত দিয়েছিলেন। মতামত না দিয়ে বরঞ্চ জনমত তৈরী করুণ। পারবেন? যে লোকে বাঙালি খাবার খেতে রেস্তরাঁয় যায়, তা বাড়িতেও তো জমিয়ে রান্না করা যায়। কী সুন্দর সব মাছ মাংসের পদ, নারকেল দুধ দিয়ে শুক্তো, ছানার কোপ্তা, সোনা মুগ ডাল, বাহারি চাটনি…. সে সব ছেড়ে গুচ্ছ কাঁড়ি টাকা খসিয়ে রেস্তরাঁয় কেন বাপু! এসব তো আমাদের ঘরের সম্পদ, তাকেও বাণিজ্যিক করে তুলব? আর এসব যদি এই বেলা শিখে না নিই আমাদের ছেলেমেয়েরা তো রান্না করতেই জানবে না। হারিয়ে যাবে নারকেল নাড়ু,  মুড়িঘন্ট, ইলিশ ভাপা।  তালের বড়া  দোকান থেকে কিনে খাই, ছানার ডালনা হয়ে গিয়েছে পনির, নটে শাকের করলা ঘণ্ট খেতে গেলে শ্যামবাজারের পাইস হোটেল । বাঙালি ঘরের রান্নার গন্ধ, কড়াইয়ে খুন্তির ঠুংঠাং সেকি নাচ নয়? উৎসব মানে কি শুধু হেয়ার স্পা, প্যান্ডেল হপিং আর রেস্তরাঁয় বসে খাবারের থালা সাজিয়ে ছবি? সব শেষে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি, “ওহ, কী লাকচে!” বলে কেউ যদি রাস্তায় চেঁচায়- ওইখানেই থাবড়িয়ে দাঁত ভেঙে দেওয়া হবে। ধন্যবাদ…          

          প্রিয় রিমঝিম-সোনাঝুরি প্রিয় সাঁতার-অপেক্ষা। প্রিয় জ্যোতিষ্ক- নীরবতা। প্রিয় চুম্বন-রেবতী। প্রিয় স্মৃতি-বাঁশরী। প্রিয় বিস্ফোরণ-কুঞ্জবন। প্রিয় রঙ-শ্রীরাধিকা। বেঁচে থাকা? সে এক ধ্রুপদী মলাট মৃত্যু? সে তো পরম প্রচ্ছদ এটিকে কি পরকীয়া বলা যায় আমি জানতে চাইছি….আমার লেখা শেষ চিঠি, আর লিখবো না, কখনো না, আর কোনোদিন কিছু জিগ্যেস করবো না। তুমি তোমার বউয়ের জন্য ৩৫০০ টাকার দামি শাড়ি কিনে এনেছো, সেই শাড়িটা আমিই পছন্দ করে কিনে দিয়েছি। অথচ আমার জন্য একমুঠো দোপাটি ফুল আনতেও তোমার হাত কেঁপেছে …. তোমায় ভাবতে হয়েছে, আসা যাওয়ার পথে কেউ দেখলো কিনা, তোমায় পেছনে ফিরে ঘুরে দেখতে হয়েছে বারবার। মাথার চুল ট্যু পায়ের নখ ইস্ত্রিমার্কা সাজগোজ করে ছিঁচকে দুঃখ সাজাবেন? মিনিমাম এক‌টি আলোমিছিল? এসব দেখে আমারই চুদে দিতে ইচ্ছে করে, বিশ্বাস করুন। মাভৈঃ বলে নগ্ন হয়ে রাজপথে নামুন এক হয়ে। দিকে দিকে। পিতা নয়, পিতৃব্য নয়, ভাই – বন্ধু নয়, স্বামী নয়, পুরুষ, তুই দেখ! দেখ! পারবেন তো মা, পারবে তো বোন? সময় আর নেই যে — এখুনি –মাতলা’য় ছিল রাতজাগা চুপ তোমার অধরা সহিষ্ণুতায় বাধুক  ঈশ্বরীর হরবোলা খুশি,কাঞ্চনমালা তুমি অনুরাগ মুছে চর্চিত রাগে রাজবেশে গেলে অন্তঃপুরে আমার একলা বসনে বিলাপ তুমি শুনেছিলে রাত পারাবারে…

          এরপরে কিছু গোপন থাকেনি লোকালয়ে বাঁচা গরাদ জীবনে মানে খুঁজে খুঁজে অরণ্য বাঁচে আমি বাঁচি কারো ছেঁড়া অভিধানে । বুকে ভালোবাসা নিয়ে বেড়ে ওঠা মানুষগুলো ঠকতে জন্মায় ;বাঁচতে না…বেঁচে থাকার একটা নেশা আছে! ধমনীর লাল রক্ত যেন সুরা, উষ্ণধারা শাখা-প্রশাখায় বইছে। ছোট ছোট আশা-আকাঙ্খা যেন পালতোলা নৌকো; ঘাট হতে ঘাটে ভেসে চলেছে। ঠিক সময়ে একজন আসবে, কিছুদিনের জন্য সবকিছু ভুলিয়ে দিতে… ঘিজতাঘিজাঙ নেশার ওপর নেশা চড়াতে, লাল-নীল-সবুজ স্বপ্নের চাঁদোয়া টাঙাতে। পেছন দিকের দরজা খুলে যাবে; নির্জন দাওয়া। তিন ধাপ সিঁড়ি, ঘাসে ঢাকা পথ, ছোট্ট জলাশয়, কাচের মতো টলটলে জল, অদ্ভুত বাতাস। 

         চুল-চোখ-নাক-কন্ঠস্বর, স্পর্শ সব একেবারে আলাদা। ভীষণ এক ভালোলাগা! আসলে এসব কিছুই নেই, কল্পনা। এ কল্পনা কেন এলো? কেমন একটা ভিজে ভিজে ভাব, ‘মনটারে তুই ভাগা রে কাগা’ এ হলো পাগলামি। কে সে? মাথার ওপর দিয়ে একটা পাখি উড়ে গেছে। ডানার বাতাস! কোন ডালে বসলো – এ কী বলা যায়! তবু, আর একবার যদি দেখা হয়! এসব সময়ে বেশি কিছু বলতে ইচ্ছে হয়না, এটুকুই বলতে চাই, সব্বাইকে ভালোবাসা সম্ভব নয়, কিন্তু মানুষ মানুষকে সম্মান করুক, তার প্রাপ্য সম্মানটুকু দিক, মানুষ আর একটা মানুষের ইমোশনের কদর করুক…বহু জায়গায় দেখেছি দুটো মানুষ আমন্ত্রিত, কিন্তু গুরুত্ব একটা মানুষকে বেশি দেওয়া হয়, আর একজনকে কম। আপনি জানেন না হয়তো সেই সময় ওই মানুষটার কতটা খারাপ লাগতে পারে।হয় নেমন্তন্ন করবেন না নইলে সম্মান করবেন।একটু চোদা খাওয়ার জন্য আমি কত কিছু করি,,,,,, ইচ্ছে করে ছোট ভাই কে দিয়ে করিয়ে নিই আমার ভোদায়,,,,,,,, ভাই যখন শুয়ে থাকে আমি গিয়ে ওরটা নাড়তে থাকি,, এইতো কাজ হয়ে গেল,  আমায় বাগানের ঘাসে, আমার ভোদাটা একটু বিদেশি…মেরেলিন মনরোইস্ট, কোমরের তলায় বালিশ… ওহহ কীইযে শান্তি…টি এস এলিয়ট বলে গেছেন।

          ঘরের লোক মেলায় গেলে, আমায় ঘরে ডেকে আমার শরীরের উপর উঠে বসতে কিন্তু একবারও তোমার পা কাঁপেনি…. তোমার বউ স্মার্ট, নাক টিকালো, লাল টিপ পরে, গায়ের রং ফর্সা, তাই তুমি সেকেন্ডে সেকেন্ডে ফোন করে খোঁজ নাও, সে শাড়ির সাথে কোন ব্লাউজটা ম্যাচিং করে পরলো, হাই হিলস পরলো, নাকি ফ্ল্যাট….কোন শেডের লিপস্টিক মাখলো ঠোঁটে, অফিসে থাকতে থাকতে তুমি তাকে ছবি পাঠাতে বলো কয়েক ঘন্টা অন্তর অন্তর, তাকে কেমন দেখতে লাগছে জানতে চাও! আহা আজ বৃষ্টি হয়েছে, রাস্তায় জল জমা, সে কিভাবে যাবে তার বাপের বাড়ি, এই চিন্তায় তুমি কম্পিউটারের সামনে বসে ভুল টাইপ করে গেছো দিনের পর দিন!….সে বিরক্ত হয়ে গেলেও তুমি রেয়াত করো নি! অথচ আমায় একটা ফোন করার সময় দরজায় ছিটকিনি লাগাতে হয়েছে তোমায়, চাদর মুড়ি দিয়ে ফিসফিস করে কথা বলতে হয়েছে। একবার বলেছিলাম একটা চিঠি লিখতে, তুমি ব্যঙ্গ করে সেকেলে বলে হেসেই উড়িয়ে দিলে….

        কবে একটা ডানডিয়া নাইটের নিমন্ত্রণ করল একজন। কী ভয়ের ব্যাপার। কলকাতা যাব রে। লোকজন আমাকে নাক উঁচু বললে তাই। ভাই রক্ষা কর আমায় । এসবে আমি নেই। সন্ত্রাসীরা কোপাচ্ছিল স্বামীকে। আর সেই খুনিদের দুই হাতে জাপটে ধরে স্বামীকে বাঁচাতে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন স্ত্রী। চিৎকার করে অন্যদের সাহায্য চাইছিলেন। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত স্বামীকে বাঁচাতে পারেননি  মিন্নি। বরগুনার মাইঠা এলাকার নিজ বাড়িতে বসে স্বামী হত্যার সেই ভয়াল স্মৃতির বর্ণনা দেন  মিন্নি। একটি ভীষণ মন খারাপের ছবি।জাহ্নবী ধরে রয়েছে মোম মায়ের হাত।শোক বড় ব্যক্তিগত। তারাই বোঝে যারা হারিয়েছে ছাতা।প্রোটেকশন দিতে পারিনি। গানপয়েন্টের মুখ। মেলে দিয়েছি গতর। সাম্প্রতিককালে এমন রঙিন রানওভার দেখেছ কি ? বুককেস থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত ব্যাকলেস ব্রা। এমন মৃদু ফ্লেভার হ্যালোজেন শুঁকেছ? দ্যাখো। চাখো। আসহোল। আয়োডিনের ঝাঁঝ নাও। তারপর … তারপর …মাদার-সিস্টার থেকে সেরে ওঠো হে অ-যৌনসিস্টেম…

          কথাবার্তা না, দল থেকে তাড়িয়ে দেয়া না।চোঁ-চোঁ দৌড় না, পাকড়ে ফেলা না।ছোটা একেবারেই নিষেধ।ধুমপান নিষেধ। চোদা বারণ। হাত্যারের আজ কুড়িতে পা। চারিদিকে এত চাকচিক্কের মধ্যে কোথাও গিয়ে ভুলে থাকা সত্যিগুলোকে সাধারণ এর সামনে বিবস্ত্র করার অঙ্গীকারটুকু নিয়ে আমাদের এগিয়ে চলা। হাতে হাত রেখে একসাথে আরোও বড় হব আমরা।  হ্যাঁ হাম লড়েঙ্গে সাথি, উদাস মওসাম কে খিলাফ। হাম লড়েঙ্গে তবতক, যবতক লড়নে কি জরুরত বাকি হোগি…শালা হিন্দি ছাড়া বলতে পারিস না বাঞ্চোৎ।  তুমি তোমার প্রিয় মানুষটার জন্য গা ভর্তি গয়না এনে দাও, প্রতিটা গয়না আমার পছন্দ করা! আমি তখন বাথরুমে, আমার চোখ বেয়ে নেমেছে গর্ভজল। তুমি তো জানো মেয়েদের কাছে গয়নার গুরুত্ব ততটাই যতটা বাঁধানো ফ্রেমের কাছে ছবির কিংবা মুষড়ে আসা স্মৃতির কাছে ফেলে যাওয়া পায়ের ছাপের….কিন্তু জানো তো প্রাণঘাতী বোমার আওয়াজও বড় সুমধুর লাগে তোমার বউএর গা ভর্তি গয়নার আওয়াজের চেয়ে…আমি তোমারটা কখনো ছুঁতে চাইনি, তোমার সাথে কিছু মুহূর্ত একটা পাহাড়ঘেঁষা ছোট্ট কাঠের বাড়িতে কাটাতে চেয়েছিলাম, এই ধরো একদিনের সংসার…ঘিজতাঘিজাঙ ঘিজতাঘিজাঙ সারারাত….

           ‘ আমার না জন্মানো মেয়ের নাম মারুঙবুরু ‘…..ফিরে আসাটা বা ছেড়ে আসা ,তার মাঝখানে একশীর্ণ  লাল সিগন্যালে দাঁড়িয়েছিল ,সেই রাস্তাটার নাম লাতিন কোয়ার্টার। এই শহরটা এমনিই। সঠিক আলোর খোঁজেই তো পথে নামা। অথচ বাহকের হাতে মরণ বন্ধক রেখে সাড়ে সাত মাইল আকাশই দেখলাম একনাগাড়ে। তার আগে দাঁড়িয়েছিলাম ঝর্ণার রেলিং ঘেঁষে। সবুজ থেকে আরও সবুজতর হয়ে দেখেছি বাতাসের সঙ্গে বাতাস কথা বলছে, ” প্রফুল্ল,চিনতে পেরেছ ?”এই তির্যকটার প্রয়োজন ছিল। একটা পোর্সেলিনের ফুলদানি কেঁপে উঠেছিল কারণ হাওয়া বদলের সংশয় থেকে সেও মুক্ত নয়। ধরা পড়া’র পরের অধ্যায়ে কোনও অজুহাতই ধোপে টেকেনি। চাঁদ একটা আরামকেদারের মতই আধখানা হয়ে ঝুলছে। মাঝে মাঝে একটু কাত করে ঢেলে দিচ্ছিল ম্যাগমা। নক্ষত্রবেষ্টনী ছেড়ে কতটুকুই বা এগোনো যায় ! বা পৌঁছানো। মাইনাস ডিগ্রিতে একটা সম্পর্ক মরুদ্যানের গল্প বলছে। শুনতে পাচ্ছি , কিন্তু দেখতে পাচ্ছি কম।সম্পর্ক আর দূরত্বের অনুমান নির্ভুল বলি কী করে। মাইনাস পাওয়ারের চশমাটা মাঝে মাঝে ইচ্ছাকৃতভাবে প্লাস পাওয়ার হয়ে যায়…

           কাকুদ্বয়, বিস্তারিত চাই। আমার যখন তখন বহুকিছু ক্ষিদে পায়। মুক্তির দিনে বন্ধনের প্রকট হাতছানি … মানতে হয় নাহলে… নোটে গাছটি মুড়িয়ে গল্পের শেষ দাঁড়ি টানতে হয় ….” প্রথমাবধি ঐশীবোধের লালন ছিল শ্রী বিশ্বনাথের অন্তরে। এ প্রসঙ্গে তাঁর আধ্যাত্মিকবোধ সম্পর্কে দু একটা কথা না বললেই নয়। তথাকথিত গ্রিকদেবীর মোহময়ী পৌত্তলিকতা নয়, তাঁর আধ্যাত্মিক বোধ ছিল সমন্বয়বাদী অসাম্প্রদায়িক উদার মানবতাবোধ। তিনি পরম্পরায় বিশ্বাসী ছিলেন  এসরাজবাদক। যে কোনো বিশেষণই কম পড়ে কিছু মুগ্ধতা কে প্রকাশ করতে গেলে। ফ্যাশন ঘুরেফিরে আসে। কিশোরীবেলার আমব্রেলা কাট এবার জোরদার ফ্যাশন। ১৯২০-তে জন্মানো মা বলত এটা তার বালিকাবেলার কাট। কিনেছি এবার দুটো ছাতা, চিনের তৈরি বলে সস্তার তিন অবস্হা…কিন্তু মাওয়ের দেশ।

          বিষাদ ধারণে সে অনন্তগর্ভিণী এখন নিরাপদে পেরোয় যাবতীয় সম্ভাব্য অলীকের মৃত রন্ধ্রগুলি । এই ধরায় একা উনি অন্ধকারকে ‘নিস্তেল’ পেয়েছেন , এমন কি ? দীর্ঘকাল পর পরিত্যক্ত অশ্বথখচিত ছাদে দাঁড়ালে নিজেকে জাতিস্মর ভ্রম আসে বহু জনেরই । ছাদে অশ্বথ্থ দেখলেই বিলডার গোঁত্তা মারবে । যার কুণ্ডলীতে বিষযোগ থাকে , একা সেই প্রেমিকা উন্মাদিনী । কখনো কেউ ভাবে বিসর্জনের দুর্ভাগ্য লেখা হয় একমাত্র উপলক্ষেরই বিধিতে ? জলস্তর বাড়লে কী পার্থক্য গো-ক্ষুর আর সমুদ্রে ? সীমানার ক্ষত নিয়ে কত সহস্র হত্যা রোজ সসাগরা পৃথ্বীতে । ধান খেয়ে যায় মোহবাসবেরা , দ্বন্দ্ব প্রচুর , কূর্ম না নোয়া , কে ভেসেছিলো আগে ? যার গরলবর্ষা তুমি নিতে পারোনি , পরিযায়ী উড়াল তোমারই দিগন্তে সে কেন ভাসাবে ? করুণার রং উগ্র পাণ্ডুর অথবা পিত্ত প্রবণ, নিবিড় সমঝোতা থাকায় স্বাভাবিক প্রতিবর্তে কখন যে পরম শূণ্য ছুঁয়েছে ,জানা যায়নি । অনুকম্পা। করুণা। এই সব কারো কাম্য হতে পারে? যদি হয় তাহলে কিছু বলার নেই কিন্তু যদি না হয় তাহলে জানতে চাইবো কেউ কেউ নিজের বুকে ছুরি দিয়ে এই দুটো অনুভূতির পাওয়ার আশা  লেখে কেন? 

          বড় হচ্ছিনা একটুও ;এতটাই বড় হয়ে যেয়ো না যে তুমি ভুলে যাবে মাঠ।সেই তুমি পায়ের আঙুলে খেলা করতে পাথর নিয়ে,কিছুক্ষন বাদে সোজা শট।চু কিৎকিৎ, ভোকাট্টা বা খেলার শেষে চুরমুরে লাগানো আঙ্গুল চেটে নেওয়ারস্বাদ ভুলে যদি যাও জানো তুমি করবে পাপ। হ্যাঁ সেই রকমই দুস্টুমি নিয়ে যখন গুলতি ছুড়তে, বা কাঁচের গুলি নিয়ে ছোট বেলার সব ইকড়ি মিকড়ি বন্ধুগুলো হাফ পেনটুল ,ধুলো মাখা ফ্রকে গোল্লা ছুট……ছুটতে ছুটতে গো স্ট্যাচু রেডি,চোর পুলিশেরধপ্পা বা রুমাল চুরি লজেন্সের ভাগে ভাব ,আচারে আড়ি। রেনল্ডস বা রোটম্যাক পেন এখনো বড্ড দরকারী। কাবাডির জিত বিশেষত ঘাসের মাঝে, কাদা মেখে শুষে নিতে ঘ্রাণ বৃষ্টির ।এতটাই বড় হয়ে যেয়ো না যে তুমি ভুলে যাবে পরবের শেষে নিমকিনাড়ু বা খিচুড়ির প্লেটে একসাথে পাঁচজন কাড়াকাড়ি। শীতের দুপুরে কমলার কোয়ার ভাগ বা উল কাঁটায় মা কাকিমার বোনা ঘর গুলো জুড়ে গিয়ে তোমার স্কুলের সোয়েটারে স্নেহ ঝরে পড়তো পশমের আদরে। এতটাই বড় হয়ে যেয়ো না যে তুমি ভুলে যাবে তোমার ভিতর একটা শৈশব আছে। এখনো অনেক ভিড়ের মাঝে তাকে খুঁজো। ঠোঁটের কোণে তখন হাসির ঘিজতাঘিজাঙ ফিরে পাবে…

          সমর্থনের মাধুকরি যাচ্ঞা করেছো দ্বারে ও দ্বিপ্রহরে । অমানিশার মধু অপার্থিবই থেকেছে সেমত নিঃস্ব এ হিরণ্ময় ঘোরে । সমর্পণ প্রার্থিত থাকে প্রথম অর্ধের পতঙ্গসূত্র মাত্রেই , বলো কয়টি কণ্ঠ, মন্থনের ধারক হতে পারে ? অবশেষে এক আশ্চর্য ছায়াসম্ভব আলো আমায় নিষ্কৃতি দেয় , যতো ছিল অমায়াপ্রসূত ভালোবাসা সমুদয় , প্রাচীন ও প্রাণ্তিক প্লাটফর্মের মতো ক্রমে ভ্রম মনে হয় । কিছু শ্রাবণে ধারা বড় বিহ্বল রেখেছিলো জাগতিক রূপগাথা আর অনিবার্য বিপর্যয়ের কারনামায় । আদ্রর্তাহীন মাদকতা অভ্যাসে ফিরিয়েছে প্রতি ধ্যানান্তে বৃক্ষতলটি ভোলার । ঠাকুর বাড়ির ছাদে মাতঙ্গিনী গঙ্গোপাধ্যায় মানে কাদম্বরী দেবীর  আত্মহত্যার  ১৩৫ বছর পরেও সেই ছাদে এখনো প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে….আত্মহত্যাকারিণীরা অমর হয়। 

           তুমি দেখো অকালমৃত্যু , আমি জানি বিচ্ছেদের আতঙ্ক কতদূর তীব্র হলে প্রেমিকের করতলে হত্যারেখা জাগ্রত হয় । এক যোগীর কথা পড়েছিলাম,এক বৃক্ষতলে দুইবার ধ্যানে বসতেন না,পাছে মায়া পড়ে যায়। মেঘ আর বিদ্যুতের রহস্য ভেদে যে আলো দ্বিতীয় গ্রহে আসে,তার তাপ ফুটন্ত বাষ্পের সামান্য দ্বিরাগমনে বাপের বাড়ী আসা মেয়েটির সখী সান্নিধ্যের আতঙ্কের থিম লিভটুগেদার সদ্য-বিধবার থেকে আলাদা নয়।অশুভ মহাদেশকে আবিষ্কারের ব্যর্থতা যে কোনোদিন লোনাজল খায়নি তাকে বোঝানোর সমতুল্য।আসলে কী জানো আমি কোনোদিন যাইনি তোমার কাছে যে গিয়েছিল তা একটি শরীর দুটি বুক থার্টি সিক্স বি একটি যোনি আর তাকে ঘিরে কয়েকটি লোমকূপ আর একটি গর্ত আশ্চর্য ব্যাপার দ্যাখো তোমার ওই  কেঁচো আমার এই  গর্তকে গিলেও ফেলতে পারলো না….

          সম্ভ্রান্ত গণিকালয়ে মান রক্ষার্থে যে পুরুষ বাস্তুকে বাজি রাখে,ব্যাসদেবের বাইরে তার পরিণতি চাইছি- “ড্রাকারিস”। ক্ষমা এমন এক অবস্থান উন্মাদ নগ্নিকা,  দানের কাপড়ে ঠিক যে দৃষ্টি দেয়। যে হাঁস, ঝাঁক থেকে আলাদা হয়ে কসাই পুকুরে পৌঁছে যায় পরম বিশ্বাসে,তার মাংস বাজারে আলাদা করে বিক্রি হয় না।হত্যাকারী সন্তানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর মহিলা বিচারকটি নিব না ভেঙে তুলে রাখেন গর্ভপাতের স্মারক হিসাবে। কর্মসূত্রে আসা যাওয়ার পথে ‘বেইমান-দেউড়ি’ পড়ে। আকাশকে ব্যথা শোনানোর রাত পেরিয়ে প্রতি সকালে দেখি ক্ষয়িষ্ণু রক্তরঙের ইঁটের খাঁজে খাঁজে অজস্র মলিন বিশ্বাসঘাতকতা। পাঁজরে তীব্র দংশন ধবল কোন শ্বেতাম্বরী পেঁচা আসেনা।একাহারী শরীরের চোষক,সফল এক বাদুড় আত্মা থেকে উড়ে গিয়ে মিলিয়ে যায় বিপুল আলোর উৎসবে।সিসে রঙের হাওয়ায় কান পাতলে প্রতিধ্বনি আসে শেষ স্বাধীনতায় কোন যুদ্ধ হয়নি।পরিকল্পিত ছিলো প্রতারণা। প্রিয় বান্ধবীর নাভিতে ‘ভালো’ দস্তখত পড়ে  এসেফাই এর আটকানোর কথাও না কারণ ভোটগুলো তো বিজেপিতেই দিয়েছে। বাম যে রাম হয়েছে সেটা বোঝাই যায়৷ আর সবাই যদি ওই আটকানোর বিপক্ষেই থাকে তাহলে পরের দিনের ওই র‍্যালিটা কি শুধু ইউএসডিএফ আর র‍্যাডিকাল মিলে করেছে? ইউএসডিএফ বা র‍্যাডিকাল যদি আটকে থাকে তবে বেশ করেছে৷

          সিরাজদের কোন ঈশ্বর থাকেনা। ক্ষমতার খেলা চলে ব্যভিচারি আলেয়ায়।নেশাগ্রস্তের বমনে উঠে আসে সবুজ সন্দেহ,ঘৃণিত কৌশলের অপাচ্য মাধুকরিকে দাঁড় বেয়ে আনবে বর্ষা? মায়েরা জানে না কীভাবে একই গর্ভ থেকে প্রসব হয় সন্ত ও হত্যাকারী। প্রেমিকের কষ্টে টাকরায় আওয়াজ তুলি সান্ত্বনার বা আফশোসের নয়, আরামের। পাথরভরা বুক, যেমন বলেছিলেন গালিব এই নিষ্ঠুর বুক আমার সম্পদ। নয়তো এত ভালোবেসেছি জীবনে টুকরো টুকরো হয়ে কবেই ধুলো হয়ে যেতাম “দুশমনি জম কর করো,পর ইতনি গুঞ্জায়েশ রহে,কি ফির কভি হাম দোস্ত বন যায়ে তো শরমিন্দা না হো”। আবার শালা হিন্দি ফিলমের ঘিজতাঘিজাঙ । রাজা গণেশের কিছু পরে বঙ্গের দুই  প্রসিদ্ধ কবি আবির্ভূত হন। চন্ডীদাস ও   কৃত্তিবাস। আদি বাঙালি কবি এঁরাই। কিন্তু শিক্ষা বিষয়ে  সাধারণ বাঙালি সমাজ অনেক পেছনে তখন থেকেই। মিথিলা তখন সংস্কৃতচর্চ্চার বাজার। আর সে যুগের লেখাপড়া মানেই হল  সংস্কৃত ।  নদীয়াবাসী কৃত্তিবাসকেও ‘পাঠের নিমিত্ত গেলাম বড় গঙ্গাপার’ মানে বরেন্দ্রভূমিতে যেতে হয়েছিল।          রেখে যাওয়া বলতে তো সে এক আধখাওয়া নদীজল মুগ্ধতার জরুরী বৈঠক তাকে আমি বরং করে তুলি। 

        রেখে যাওয়া বলতে তো মন্দির দালানের কোলে মিহি আতাগাছ যার ছুঁয়ে শুরু হয়েছিল অজস্র রূপকথার তোতাসংবাদ। শশ্যদানা খুঁটে নিচ্ছে মৃদু চারণায় পাখিসব করে রব শেষ বাস চলে যাচ্ছে তুমি ছায়া হাত নাড়ছো হাওয়া জানালায়। বাইরেটা ফিরতে চাইছে প্রবেশের অনুনয় নিয়ে আর শিখে নেওয়া গ্লাসনস্ত নরম করে উঁকি দিচ্ছে ডানাভাঙার ইতিহাস অনুপুঙখ একটি নিটোল গল্প সন্ধ্যার ফিসফিস মেখে ক্রমশ প্রবিষ্ট। অপরাহ্ন এইসব  সময়ের কুচি অম্লান হাতভরে স্লোগান হয়ে ক্রমউচ্চারণ নৈ:শব্দের তীব্র বোধনে। কুয়াশার রং চিনে চিনে বড় হয়ে উঠছে বিজন আঙিনায় হাসি গান ব্যাথা যত কথা সংবলিত ঘিজতাঘিজাঙ। উপযুক্ত চাকরির মতোই এই পশ্চিমবঙ্গে উপযুক্ত ছেলেমেয়েদেরও অভাব দেখা দিয়েছে বোধহয়।তাই ঠাকুর পো ও বৌদিদের ডিমান্ড বেড়ে চলেছে মার্কেটে শঙ্খচূড় বনবেহাগী মল্লারী কানহা তানবাদন বাঁশুরি রিক্ত শ্বাস ঔদাসীন্য কর্ণকুহরে পঙ্গু বাদুর ঝালর অশনি অমাবস্যায় পাতালগর্ভে কুমিরাশ্রু হা করা বিচিত্র গুহায় চন্দ্রাহত মধ্যযাম ভ্রূয়ের কাকতালীয় মধ্যাহ্ন উড়োচুলে ধুম ঘন্টাকাল নিথর মৈথুনী ভাতঘুম কচি খাদ। 

           দুটি জীবন আছে।এক, জলের ওপর যেমন  সাঁতার , ভেসে ।এ হল লড়াই।বাঁচতে গেলে ভেসে থাকতেই হবে যে।দ্বিতীয়টি হল ডুবসাঁতার।এ হল সাধনা।এখানে ডুবে যাওয়ার ভয় নেই। ডুবে থাকাই আনন্দ ; সংসারে  ভেসেই থাকো। আর একটা জীবন হলো  সাধনা।  গৃহকর্তার মাইনেতে সুরে  তাল মিলিয়ে চলা! না হলে স্কটল্যান্ড থেকে ফিরে ১১ ঘন্টার বিমান যাত্রার গা ব্যথা সারতে না সারতে আবার ভ্রমণ এবং হোটেলে চোদা !সত্যি বলছি বেড়াতে সবারই ভালো লাগে,কার নয়? কিন্তু এক স্যুটকেসের জিনিস নামিয়ে গোছাতে না গোছাতে আবার তাড়া…কন্ডোম না থাকলে হ্যাঙ্গামের একশেষ ! বলতে গেলে শেষ হবেনা।আমাদের সেদিনই সকালে সাহারা মরুভূমি যাবার কথা, সেখান থেকে মরোক্কো।  কাঁইগুঁই করে  যাওয়াটা ভেস্তে দিলাম।

          কচলে সুগন্ধি লেবু মণিকোটরে আগুনক্ষিধে জাত তিক্ততার বৈরাগ্য জিহ্বায় সন্ন্যাস।নাভিতলে পাংশুটে মাধুকরী খোয়াই তলিয়ে অন্ধধীবর মণিদর্পনের চিবুকে  রক্তিম অনশ্বর চাঁদ  নিভু জ্যোৎস্না আঁচে সেঁকে সান্ধ্য-প্রেমিকের প্রসারিত চাতালের ভৌগলিক চিত্র…ইজেলের যোনিকেশে ক্লান্তি ঘামতেলে নৈপুণ্য শীৎকার ঊরুসন্ধি  খাওয়াই বিন্দুবিসর্গ কালসাপের আড়িমাড়ি ঠেস চাপাকলে মাড়াই রুয়ি বন্ধ্যাজমিনে সাওয়ান-ভাদে বীজধানে পুংগতি। আড়ষ্ট দধিমঙ্গলে ডুব পানকৌড়ির শিরচ্ছত্র এলোকেশীর ঊরুজঙ্ঘায় জাহ্নবীর হুমড়ি স্রোত কামমর্দন। চুপকথায় দুঃশাসন দ্রৌপদীকাল রজঃস্বলার ক্ষীর আঁচলের উন্মোচন স্নিগ্ধ পুরুষদুগ্ধ বক্ষটোপরে অবৈধ স্তনবৃন্তে হামাগুড়ি। যোনিওষ্ঠে মদ্যপ ঝঞ্ঝা আলতা পায়ে প্রশ্রয় একরাশ রতিক্লান্তি।মই হামানদিস্তায় সেচ গেরস্থালীর চৌকো সাপলুডো…

        গোগ্রাসে থলথলে মাটির চৌম্বকীয় সূচের অনভিপ্রেত আবেশ। জীবনের পথটা নেহাৎ ছোট নয়, এই অ-ছোট পথ পাড়ি দিতে গেলে পরিচয় হয় অনেকের সাথেই, কারো কারো সাথে গড়ে উঠে  সম্পর্ক। সম্পর্ক গড়া সহজ কিন্তু রক্ষা করা পকেটের মাশুল , অ-যোগাযোগে সম্পর্কেও ছাতকুড়া(ছত্রাক) পড়ে। তার উপ্রে আবার এখন যোগ হইছে ভার্চুয়াল সম্পর্ক, আসল সম্পর্ক যেখানে রাস্তায় গড়াগড়ি খায়,সেখানে ভার্চুয়াল সম্পর্ক আর কতক্ষণ, কতদিন? কারো কারো কাছে ভাইয়া, দাদা,দাদান,দিদি, বুবু,আপুন, বুবুন ডাকগুলো হয়তো কেবল বাচনভঙ্গির মাধুর্য বাড়ায়, কিন্তু কারো কারো কাছে এই সম্বোধনগুলো হাড় মাংস ভেদ করে হৃৎপিণ্ড ছুঁয়ে যায়। অনুবাদ কে পড়ে? পড়েই কী আদৌ! প্রায়ই হতাশায় ভেঙে পড়ি। কেন অনুবাদ করি! লাভ কী এভাবে প্র্যাকটিক্যালি ঘুম বিশ্রাম বেড়ানো রিল্যাক্স করা সব বাদ দিয়ে অনুবাদ করার! কে তাড়া দিয়েছে এমন? ফাঁক পেলেই অপমান করতে চায় কত বাজারি লেখক সম্পাদক। তবু জেদ। তবু দাঁতে দাঁত চেপে লড়া।           

        আমি একেবারেই একরোখা মানুষ, কেউ তালি বাজানোর জন্য হাত যদি কিঞ্চিৎও না বাড়ায় তবে আমি আর হাত বাড়িয়ে বেশিক্ষণ রাখতে পারি না, হাত ব্যথা করে। তথাপি আমি মানুষ ভালবাসি, মনের মত বন্ধু হলে জানকুরবান! মানুষের উপকার করতেই ভাল্লাগে। তবে কোন সম্পর্কই একতরফা হয় না। বিশদ আলোচনায় ধৈর্য নাই। ভালকথা আমি ইকটু তিতা কথা বলি তাই আমার সাথে কারো সম্পর্ক হয় না, বাট যদি কারো সাথে হয় তো মর্ছি, খুব বৃষ্টি হলে আগে রোমান্টিক হয়ে যেতাম। আম্মা মারা যাবার পর খুব বৃষ্টি হলো। কবর টা ভেঙ্গেচুরে একাকার। আমি উন্মাদের মত চিৎকার করতে থাকলাম। আমার মনে হচ্ছিলো এই যে ভাঙ্গা জায়গা দিয়ে পানি যাচ্ছে, আমার মা ডুবে যাচ্ছে! যতো ভুলে যেতে চাই, বৃষ্টি আমাকে তার চাইতেও বেশি ঝরিয়ে দেয়। সারাজীবন দিয়েই যাবে। উৎসবে বৃষ্টি হবে না, চাপ নিস না।—–হ্যাট তুই আবহাওয়াবিদ কবে থেকে হলি রে?—–আমি বলছি তো হবেনা, সব ব্যাপারেই তোর পাকামি! —–হু হু বাওয়া! শালা তুই আমার মন বুঝিস না, জলবায়ু কি করে বুঝলি বে!… —-ফর ইওর কাইন্ড ইনফরমেশন ম্যাডাম ওটা জলবায়ু নয়, আবহাওয়া হবে। জলবায়ু আর আবহাওয়ার মধ্যে বিস্তর পার্থক্য আছে, ছোটবেলায় পড়াশুনায় কাঁচা ছিলি জানি, তা বলে সেটা লোক জানানোর কি দরকার…—–ওই হলো! আমি আবহাওয়াই বলেছি, বেশি পাকা! কথায় কথায় ভুল ধরবি না…——অবশ্যই ধরবো, আর তোর ভুলটাই ধরবো অন্য কারোর টা না। যাতে অন্য কেউ না ধরতে পারে তোর ভুল, তোকে কেউ অপমান না করতে পারে! তোকে সবথেকে বেশি অপমানটা আমিই করবো আবার সমস্ত আদরটাও আমিই করবো, আর কেউ না….—–এমনিতে আদর তো করতে পারিস না, আবার বড় বড় কথা, হুর….——ফোনের মধ্যে আদর আমার দ্বারা হবে না, সামনে আয়, কাছে আয়, হয়তো তোকে দেখলে জড়িয়ে নেবো গায়ে, কেঁদেও নেবো খানিক। জানিস যখন একলা থাকি, এক-এক সময়ে ইচ্ছে করেই তোকে ফোন করি না। তুই ভাবিস অন্য কারোর সাথে ব্যস্ত আছি….রাগে তো তোর মুখ ফুলে যায়, কিন্তু আমি তোকে নিয়ে ব্যস্ত থাকি, তোকে একদম নিজের মতো করে পেতে চাই। মনে হয় তুই আমার সামনে বসে আছিস, অনবরত বকে যাচ্ছিস। আমি যত বলছি চুপ কর চুপ কর, তুই কোনো কথাই শুনছিস না।

          বেশি হাঁটলে আমার পায়ে ফোস্কা পড়ে।—–তো আমি কি করবো! কোলে নিয়ে হাঁটবো নাকি! —-সে তো জানি, তোর ক্ষমতা নেই!—-ব্যাপারটা ক্ষমতার নয়, আমি আদরটা ঘরের ভেতরে করাই পছন্দ করি, যেখানে তোর আমার মধ্যে একটা মাছিও না ঘ্যানঘ্যান করতে পারে। শুধু তোর শ্বাসের আওয়াজ আর বুকের স্পন্দনটুকু ছাড়া আমাদের মধ্যে আর কিচ্ছু আসবে না।আমাদের গরম নিঃশ্বাস টুকু একে অপরের কাঁধে গিয়ে পড়বে, আমাদের বুকের ভেতর জমানো বরফ ধীরে ধীরে গলে যাবে, যেভাবে মোমবাতি গলে দেশলাইএর কাছে এলে….—-অনেক রাত হলো, আমরা কি ঘুমাবো না আজ?—- অপেক্ষা করছি, ঘুমো…·খুব খুব খারাপ লাগে এই একবিংশ শতাব্দীতেও যখন এই ধরনের ঘটনা চোখে পড়ে। খুব খাঁটি কথা । সত্যি একটা মানুষের যোগ্যতার বিচার তার বাহ্যিক সৌন্দর্য্য কেন হবে? কেন একটি মেয়েকে সারাজীবন তার গায়ের রঙের জন্যে আত্মীয়, পাড়াপ্রতিবেশিদের থেকে কটু কথা শুনতে হবে?   আলমারির এই চাবিনিরপেক্ষ দেরাজে আলো নেই, অন্ধকারও নেই। আত্মনিরোধের রশি দেয়াল টাঙিয়ে দিচ্ছে তুমি এবং তুমির মধ্যে। দৌড়ে চলে গেল কয়েকটা ধাঁধা মশকরা, বাদামি ইয়ার্কিতে ঢেকে যাচ্ছে চোখ।

          আর খোলা ভেঙে শাঁস বের করে আনতে আনতে কেউ একটা ঘেমে উঠল। তুমি অথবা তোমার চাইতেও তীব্র ওপেক কোনও ছায়ার এই সুচ তোমার পিঠের ওপর কাঁথাস্টিচের ফোঁড় তুলেই যাচ্ছে। কফিনের ভেতর যাকে বন্ধ করে রেখেছ, সে তো শুধু গলার স্বর। এগ চিলি কয় যাহারে….নিন্দুকেরা কহিলো বটে তীরের মতো বাক্যি….বাস্তবে প্রতিটি নিন্দুক এক একখানি ঝানু তীরন্দাজ। তবে আহারের পরে মুখমণ্ডলে যে তৃপ্তির প্রভা দেখিয়াছি তাহাতে আমার মনে হইলো আমিও কি দিনে দিনে শ্রীমান পলাশ বর্মন হইয়া যাইতেছি। তবে আমার খাদ্য সেই কদ্দু আর সজিনার ডাঁটাই।বিষণ্ণ মনভার সকালের পাশে খুব আলগোছে এসে যে ভেজা পাতাটি বসেছিল আলোফোটার আগেই, তাকে বোলো এবছর একটিও শিউলি ছুঁইনি আমি। তবু তারই গন্ধ স্মৃতির ভিতর টুপটুপ হিমের শব্দে। কানে শুনিনি অথচ বুকের মধ্যে গানের সুরগুলো ঘুমোতে দেয়নি এবারেও। দ্যাখো, পায়ের অপারেশনের পর একটানা হাঁটতে পারি না কতদিন। অথচ মনে মনে যোজন পথ নদীতীর ধরে আমবাগানের পাশ দিয়ে রাধামাধবের মন্দির ছুঁয়ে ঠাকুরদালান অব্ধি দিব্যি যেতে পারি, নির্ভার। সেখানে ধূ ধূ কাশবনের দুলে ওঠার পাশে রঙ লাগছে কাদামাটির কাঠামোয়। অনন্ত ফ্রিজশটে থেমে আছে সময় ও স্থপতির মুখ সারিসারি! জানি সেই মুখগুলোর কেউই প্রায় নেই আর এখন। অথচ আছে। প্রত্যেকে। নেই হয়ে যাওয়া বিরাট বকুল গাছটার মতই অনুভবে ডালপালা শিকড়েবাকড়ে! খুব নির্জনতা ভিতর থেকে একা করে দেয় এখন। স্তব্ধও করে দেয় উৎসব আবহে। নেই অথচ আছ, আছ অথচ নেই—- এই দুই অপ্রকাশ্য ব্যথার আড়াল আলোড়িত করে প্রবল। স্পর্শাতীত দূরে চলে গেলে বিনিময়হীন অক্ষরমালার ওপর কেবল অসময়ের বৃষ্টিফোঁটা ঝরতেই থাকে।চলো, ভিজি। এখন তো তোমার অসুখ সম্পূর্ণ সেরে গেছে বাবি! তুমি ভালো আছ,বল? এসো, হাত ধরো—! দূূর্গা না, দুর্গা। পুজা না, পূজা। অঞ্জলী না, অঞ্জলি।ধর্মটা আপনার হইতে পারে, কিন্তু ভাষাটা আমারও মাতৃভাষা। এইটারে হেলাফেলা কইরেন না। আঁতে লাগে। 

 

           বিজ্ঞাপনের পাতায় কেন যে পিয়ানোর সন্ধানে এত ছানবিন, এত পুছতাছ! বরং ছেড়ে দাও একটা বেড়াল। বরং সে-ই খুবলে তুলুক দু-চারটে আঁশ। ছবির থেকে পিছলে যাচ্ছ তুমি, আর দেয়াল খুঁড়তে খুঁড়তে পিছলে যাচ্ছে শাবল। শুধু ঘুমের ভেতর একটা হাওয়া ঢুকে যাচ্ছে, আর অতিজাগরণের এই গুগলি খেলতে গিয়ে তোমার ব্যাট শূন্য থেকে টেনে নামাচ্ছে অম্লবৃষ্টি, অথচ তুমি বোধহয় জানতেও পারোনি, এতদিন তোমার গায়ের সঙ্গে সেঁটে যে দঁড়িয়েছিল, যাকে খুলতে খুলতে তুমি গুঁড়োগুঁড়ো করে ফেলেছ পিলসুজ থেকে পিচকারি অব্দি, সেও সম্ভবত তুমিই ছিলে আলমারির এই চাবিনিরপেক্ষ দেরাজে আলো নেই, অন্ধকারও নেই। আত্মনিরোধের রশি দেয়াল টাঙিয়ে দিচ্ছে তুমি এবং তুমির মধ্যে। দৌড়ে চলে গেল কয়েকটা ধাঁধা মশকরা, বাদামি ইয়ার্কিতে ঢেকে যাচ্ছে চোখ। আর খোলা ভেঙে শাঁস বের করে আনতে আনতে কেউ একটা ঘেমে উঠল। তুমি অথবা তোমার চাইতেও তীব্র ওপেক কোনও ছায়ার এই সুচ তোমার পিঠের ওপর কাঁথাস্টিচের ফোঁড় তুলেই যাচ্ছে।       

         ঝড় আসলে তোর খুব প্রেম পায়। জ্বর আসলে তোর খুব আম্মার হাত পায়। মনে হয় মাথায় কেন নাই ওই হাত। আবার জ্বর আসলে খুব জেদও ওঠে। এর মধ্যে এক বান্ধবীর কথা বলি। সে  কইলো কথায় কথায় তার বর-এর সাথে সে বাইরে ঘুরতে গেছিলো। এর মধ্যে তার মিন্সট্রেশন শুরু হইসে। সে ভয়ে রেস্টুরেন্টে খেতেও পারতেসেনা, বসতেও পারতেসেনা। তো আমি বললাম তুই তর বররে বলবি না, আজব! সে কইলো, ও এসব পছন্দ করে না। খুব বকাবকি করে। শুনে আমি থ! এটাতে পছন্দ অপছন্দের কিছু তো আমার বোঝার বাইরে। নরমাল ব্যাপার। এতে সহযোগিতা করার চাইতে বেশি পছন্দ অপছন্দ ক্যামনে! তো জিজ্ঞেস করলাম, ক্যান তর বর পাঁঠা নাকি যে ন্যাচারাল প্রবলেম বুঝবে না? তো পাঁঠা শুনে আমার পাঁঠির খুব গায়ে লাগাতে সে ফোন রেখে দিলো। 

          এইবার আমার কথায় আসি। একদিন বিকালে খুব খারাপ লাগতেসিলো। আম্মা মারা যাবার পরপরই। তো আমার খুব কাছাকাছি ক্লোজফ্রেন্ড বলতে কমল ই থাকে। আমি কমলরে ফোন দিলাম। কমল বল্লো তুই দশ মিনিট পর বের হ, আমি  বাসায় আসছি, ফ্রেশ হয়েই নামতেসি। বের হইলাম, এসে দেখি কমল ও চলে আসতেসে। আমরা চা খাইতেসি দাড়ায়া চায়ের দোকানে। এর মধ্যেই আমি বুঝলাম আমার শরীর খারাপ হইতাসে। তো আমি চা শেষ কইরা কমলরে বললাম দোস্তো, একটু বাসায় যেতে হবে। ও অবাক, বলে তুই আমাকে নামাইলি ক্যান তাইলে। দশ মিনিট হয় নাই। কাছাকাছি একটা রোম পুড়ে যাচ্ছে,তুমি নাই নাই করে উড়ে যাচ্ছে সমস্ত বুধবার।

          বললাম একটু ঝামেলা হইসে। ঘাড়ত্যাড়ায় কয়, বল আগে কী হইসে, শুনি। বললাম আমার শরীর খারাপ হইসে, কোথাও বসা যাইতেসে না। ও প্রথমে বুঝে নাই, পরে নিজে দৌড়ায় গিয়ে প্যাড কিইন্যা আইন্যা দিসে। টোকিও স্কয়ারে গিয়ে আমি নিজে ঠিকঠাক হয়ে আমরা হাঁটলাম। এরপর ও আমাকে বাসা পর্যন্ত দিয়ে গেল। সিকিম যাবার পরেও এই ঘটনা। দাদা, আপারা আলাদা, খাবার হোটেল খুঁজতেসে গ্যাংটকে। আমি উপায় না দেখে দাদাকে কল দিলাম। আপা আর দুলাভাই ওয়াশরুমে। তো শাহরুখ খানভাই সেইখানে কোত্থেকে খুঁজে এনে দিলো। আমি এক হোটেলে গিয়ে চেঞ্জ করে নিলাম। এমনিতে শাহরুখ আমাকে সিমরন ডাকে। এর মানে ঘষেটি বেগম। কারণ সে কিছু করলেই আমি সেইটা পুরা গ্রুপে বলে দেই। সারাক্ষণ আমরা মারামারি করতেই থাকি। আরেকবার, ঝিগাতলায় একই ঘটনা। আমি নিজে গিয়ে কেনার অবস্থায় ছিলাম না। ঝিগাতলায় সলমানরা থাকে, তো সলমানকে ফোন দিয়ে বললাম, সে দৌড়াতে দৌড়াতে নিয়ে আসলো। ওইখানে একটা ক্যাফেতে গিয়ে আমি বাঁচলাম। এরা বন্ধু। এরা খাঁটি বন্ধু। আমার এদের নিয়ে প্রাইড হয়। যা বেসে বোঝাতে হয়,সে ভালোর কোন বাসা নেই, যে ভালোকে বুঝতে সব বাসা ছাড়া যায়, তাকে বাসতে হয় নাকি?

          যে মানুষকে মাথায় তুইলা রাখবেন, তার প্রধান ও একমাত্র কাজ মাথায় দাঁড়ায়া কপালে লাত্থি আর চোউক্ষে গুতা দেওয়া। যে কোন সময় মুতে (ভদ্র ভাষায় সুসু ও হিসু পড়ুন) দিলেও বলার কিছুই…অ…আরেকখান কথা! আবেগ থেকে ‘আ’ ঝইরা যাওয়া মানুষের কেবল বেগ থাকে। আর এই সমস্ত চাপ সামলানো মানুষগুলা একটু হাসলেই কত কত জনের পিত্তি জ্বইলা যায়! পিত্ত পোড়া মানুষের হজমে সমস্যা হবেই, নতুন কিছু না..জনস্বার্থে ট্যান্টানায়ায়ায়া….

        যাঁদের স্যানিটারি ন্যাপকিন শুক্রবার বেরিয়েছে, অথচ এখনো পাননি। উদ্বিগ্ন হবেন না। শনি/রবি দুদিন  ছুটি থাকায় দেরি হচ্ছে। এই দেরি সম্পূর্ণ রূপে  অফিস সংক্রান্ত বিষয়।যে বিলের ছবি দেওয়া হয়েছে, সেখানে ট্র‍্যাকিং নাম্বার রয়েছে। অনুগ্রহ করে একটু ট্র‍্যাকিং করে অবস্থান জেনে নেবেন।  তার জগতে, তার ঈশ্বরের জগতে, আমি দুদণ্ড বসতে এলাম পার্কে অপ্রয়োজনীয় লিঙ্গমূর্তি সে অফিসে গেছে, তার জগতের চাবি রেখে গেছে বলেছে মাঝে মাঝেই মনেও করিয়ে দেবে, সে ছিল, সে আছে আস্তিকের যেমন বিশ্বাস নাস্তিকের শুকনো নিঃশ্বাস তার বাগানের ফুলে ফেলে ফেলে আমি ক’মিনিট বসতে এলাম এই যে শহর, কখনো কখনো অন্ধের মতোন একজন মানুষকে বিশ্বাস করলে, একটা সময় সূর্যের ফকফকা আলোতেও অন্ধকারাচ্ছন্ন কুয়াশা ছাড়া কিছুই দেখতে পাওয়া যায় না। কারণ, মানুষ যেমন ভালোবাসে আবার এই ভালোবাসার ছলে ঠকিয়েও দেয় কেউ ধরতে পারে কেউ পারে না ।..

          এই উপুড় শহর, তাতে লিভারে উঠলে ব্যথা সে আমায় ডাকে আস্তিকের যেমন বিশ্বাস বলে যে যেমন খুশী ওষুধ লিখলে আমি, পিয়ন পাঠিয়ে তখনি আনিয়ে নিয়ে নির্দ্বিধায় খাবে আস্তিকের যেমন বিশ্বাস আমি কত কত ঘরে অশোক সরিষামুঠি খুঁজে ফিরি শিশুটির নিরাময় তরে আমি যাই গুগলেরও কাছে বলো সেই অসুখের আরোগ্য আছে? সে তো সেই বিধুর প্রেমিক সেই সেভারাস স্নেপ হঠাৎ টেক্সট এ বলে বালকের চোখ তার মায়ের মতন হঠাৎ টেক্সট এ বলে, আশীর্বাদ করবে শিশুকে! আমরা ইউ নো হু-র ভীষণ বিরোধী লড়তে লড়তে আর দৈবী বাগানের দূরে যেতে যেতে আশীষের ফুলটুকু মাথায় ছুঁইয়ে দিয়ে ডায়েরির পাতায় রেখে দিই নাস্তিকের যেমন বিশ্বাস সারা গায়ে জেগে ওঠে মেঘের মতো সুদৃশ্য ছত্রাক। ধবধবে টেবিলক্লথে ছলকে পড়া কফিদাগ মন। খুলে রাখা, ভুলে যাওয়া কলমের কালি মেখে চাইছে দু’চোখ। শিরা বেয়ে হাতে নেমে যেদিকে যা ছুঁই− বিছানার চাদর, হিসেবের খাতা, ইরটিক বই − এ শহরে দিন কাটে, চারিদিকে ওড়ে শুধু কালোকালো ছোপ। পা বেয়ে শরীরে ঘুমোতে যায় উল্কিস্মৃতি, আমার প্রিয় শহর। রোজ রাতে একে একে লাইন করে সাজানো হয় ফুটপাথ। আঁটোসাঁটো পোষাক, মুখ বাঁধা, ভেতরের কথা যেন বেরিয়ে না আসে। সারি সারি কালো নীল সবুজের গারবেজ ব্যাগ। রাতারাতি পাচার হয়, শহরের নিকোনো উঠোন। এসবের নীচে চাপা পড়ে থাকে বহু সংসার। ছেঁড়া দস্তানা, কুড়োনো টয়েলেট পেপার, ভাঙা কাপ, খুচরো সেন্ট, আধপোড়া সিগারেট, গোলাপী খরগোশ। যে মানুষ ঘরছাড়া, আবর্জনার শেষে তার প্লাস্টিক বাড়ি। প্রতিরাতে হানাদার ফাঁকি দিয়ে পলাতক বাড়ি দেখি সকালের ট্রেনে। শহরের সূর্যমুখী ক্ষত সারাদিন বাঁচে, মরে রোজ রাতে। রাত্রি হ’লেই সব ঝকঝকে, তকতকে।

          সব জলোচ্ছ্বাস ফিরে গেলে শুধু পদচিহ্ন থেকে যাবে উঠোনে, বারান্দায়, আর ঘরের একাকী মেঝেতে। দুলে দুলে বাতাসে ভাসবে শরতের সাদা কাশফুল আর সাদা ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘেরা ঘুরে ঘুরে কবিতা পড়বে সারাটা কাশময়।নিবিড় সে সন্ধ্যেবেলায়, চৌকাঠে ঝরিয়ে টুপটাপ শিউলি শরীর তুই বলবি, যাই নি তো কোত্থাও, এই দ্যাখ, ঘ্রাণ হয়ে রয়ে গেছি তোর প্রতিটি নিঃশ্বাসের ভিতর। ছাইরঙ টিশার্টের ভেতর ঘন অন্ধকার অভিমান ধীরে ধীরে অনুরাগ জোছনা হয়ে উঠবে সারাটা আলমারি জুড়ে। এমন করেই রাত থেকে ভোর হবে, বুকের দূর্বাঘাসে শিশির ঝরবে টুপ টাপ।  বিসর্জনই দেখেছিলে হে মন, অথচ কী ভীষণ সত্যি ছিল প্রতিটি আরাধনা ক্ষণ।ভালবাসলে নাকি নদী কথা বলে! আমি ভালবাসার জন্য সপ্ত নদীর ধারে হেঁটে চলেছি অবিরত স্রোতে ভেসেও চলেছি তবু নদী কথা বলেনি ভালবাসলে নাকি পাথরে ফুল ফোটে আমি ভালবেসে অহল্যা হয়েছি ফুল ফোটার বদলে পাথর হয়ে অপেক্ষায় ভালবাসলে নাকি বৃষ্টি নামে আমি বৃষ্টি ভিজব বলে পথে শরীর ঝলসে গেছে তবু বৃষ্টি নামেনি এরপরেও তুমি বলবে প্রেমের গান লেখ! তবে আমার ধারণা, এও কোন ‘জংগল গাছ’ই হবে, আমি সাধারণত: কোন তথাকথিত জংগলি গাছ বা আগাছা উপড়ানোয় ঘোরতর আপত্তি জানিয়ে থাকি, এটাও সেরকম কিছুই হবে, এবার আজ এসব অদ্ভুতদর্শন বীজ, ফল দেখে কী গাছ, কবে এল, এসব প্রশ্নবাণে খোঁচায়িত হয়ে বল আমার কোর্টে ঠেলে দিলেন!          

          মূল প্রসঙ্গে আসি। আমিও স্কার্ট পরা বা লেগিংস সামান্য তোলা ছবি এক/দু’বার  দিয়েছি। তাই বলে কেউ কেউ হয়ত মনে করেন যে নিয়মিত খুব সংক্ষিপ্ত পোশাকের ছবি না দিলে ‘নারীবাদ’ সম্ভব নয়, তেমনটা আমি ভাবি না। আমার  আরো দু’টো লক্ষী মেয়ে আছে।  সুরভি আর সুবাসিনী । ওরা পশ্চিমে থাকে। খুব মেধাবী ও পরিশ্রমী । ওরা কিন্ত ‘দ্যাখো, নারীবাদী হলে ইহা ইহা পরিতে হয়’ বলে পশ্চিমা পোশাকে ছবি দেয় না। ওরা পশ্চিমে ওদের সমুদ্রতীরের  স্বাভাবিক যেসব ছবি দেয় সেসব ছবির কোনো কোনোটির পোশাক আমাদের দৃষ্টিতে ‘সংক্ষিপ্ত’ হলেও আমাকে বিরক্ত করেনি। কারণ আমি জানি সুরভি বা সুবাসিনী কেউই নিজেকে ‘নারীবাদের আইকন’ প্রমাণে এগুলো পরছে না। পশ্চিমবঙ্গের অনেকের কাছে ‘বাঙাল ভাষা’টা এখনই বেশ একটা একজোটিক ভাষা । অনেকে বেশ মজা পায় ভাষাটা শুনলে। যেন দূর দেশের ভাষা এটি, যেন অচেনা কিছু। ঘটিরা রিলেট করতে পারে না। পূর্ব বঙ্গ থেকে আসা লোকেরা রিলেট করতে পারে বটে, তবে তাদের ছেলেমেয়েরা অনেকটাই কম পারে, নাতিপুতিরা তো পারে না বল্লেই চলে।  দিন যত যাবে, তত তাঁরা গত হবেন , তত এই ভাষাটা আরো বেশি অন্য দেশের, অন্য কালচারের, অন্য ধর্মের, অন্য মানুষের ভাষা হয়ে উঠবে। কলকাতার বাঙালি মুসলমানরা বাঙাল ভাষায় কথা বলে না। মু্সলমানদের  সংগে মেলামেশা না করা বাঙালি হিন্দুর কাছে মুসলমান মানেই একজোটিক, যে ভাষায় তারা কথা বলে, সে ভাষায় একজন মুসলমান কী করে কথা বলবে? এই ভাষা তো হিন্দুদের। মুসলমান হয় উর্দু বলবে, নয়তো ‘বাংলাদেশের ভাষা’ বলবে। কলকাতায় আমার বাঙালি মুসলমান বন্ধুরা এমনই ভয়ঙ্কর বাঙালি এবং এমনই প্রচণ্ড ঘটি যে বাস কে বাশ বলে, শশিকে ছছি বলে। মর্ত্যের দেবীরা ভালো নাই  ;জীবন কেটে কেটে বিক্রি করে আমাকে, টুথপেস্ট আঁকা শহরে তবু দাগের মতো ফিরি করি ভালোবাসা । একদিকে রোহিত আর একদিকে স্মিথ ; গ্রেটেস্টরাই ডবলের পর ডবল করে..দ্বিপ্রাহরিক হাওয়া এসে পিঠে টোকা মারে হু হু স্বরে বলে, ‘ভালো আছো?’ বসন্তের দিন বুঝি শুরু হ’লো,এইবার–, বুক জুড়ে জেগে ওঠে দিনাবসানের গান, জেগে ওঠে ছোটো বড় নানা অভিযোগ, হাওয়া শোনে না সেইসব, পথচারী ছুঁয়ে ছুঁয়ে চলে যায় দূরে, দূরান্তরে আরেকজনের পিঠে হাত রাখে,আনুপূর্বিক স্বরে বলে, ‘ ওহে কেমন আছো?’ 

 

About anubadak

আমি একজন অনুবাদক । এতাবৎ রেঁবো, বদল্যার, ককতো, জারা, সঁদরা, দালি, গিন্সবার্গ, লোরকা, ম্যানদেলস্টাম, আখমাতোভা, মায়াকভস্কি, নেরুদা, ফেরলিংঘেট্টি প্রমুখ অনুবাদ করেছি ।
This entry was posted in Avant Garde Story. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s